মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যে এই দেশে বড়ো “অপরাধ” তা কাওসার সাহেব হয়তো বুঝতে পারেননি?

মাওলানা কাউসারের লক্ষ্মীপুরের এক গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি। বয়স্ক এই মানুষটি সাধারণ ইমামদের থেকে একটু আলাদা। দেশ ও সমাজের প্রতি তার দরদ একটু বেশিই ছিল।

সেই দায় ও দরদ থেকেই কথা বলতেন মাদকের বিরুদ্ধে। আর সব ইমামরা যেখানে মসজিদে বসে বক্তব্য দিয়েই শেষ করেন, সেখানে মাওলানা কাউসার সমাজে মাদক ব্যাবসায়ীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান। স্পষ্ট বলে দেন, এলাকায় কোনো মাদক বেচা-কেনা চলবে না।

এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য! মাদক ব্যবসায়ীদের চক্ষু-শূ-লে পরিণত হন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যে এই দেশে বড়ো “অপরাধ” তা তিনি হয়তো বুঝতে পারেননি। হয়তো ভেবেছিলেন, ২য় স্বাধীনতার পরে অন্তত সত্য কথাটা জোর গলায় বলতে পারবেন। কিন্তু তিনি ভুল ভেবেছেন৷ আর ভুলের খেসারত দিতে হয় তাকে জীবন দিয়ে।

স্থানীয় যুবদলের নেতা সোহাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিয়াদ এর নের্তৃত্বে একদল স-ন্ত্রাসী তাকে আ-ঘাত করতে করতে মে-রেই ফেলে।

ঈদের আমেজে আমরা হয়তো মাওলানা কাউসারকে ভুলে যাবো, মাদকের বিরুদ্ধে সদা আপসহীন এক বীরের জন্য সামান্য সহানুভূতিও দেখাবো না। যারা চুন থেকে পান খসলেই মিডিয়াপাড়া গরম করে, তারাও হয়তো এই ইমামের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কথা বলবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামীকে মা-রা তো জায়েজ!

এরপর আবার কোথাও লাশ পরবে, আবার কেউ প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবনটাই দিয়ে দেবে। এভাবেই বুঝি একটা নব্য ফ্যা-সিবাদের উত্থান হতে দেখব আমরা।