বিএনপি সংবিধান মাইনা শুরু করতে চাইসে। যদি তাই হয়, তাইলে সবকিছুতেই সংবিধান, বিধিবিধান মাইনাই চলা লাগবে। সুবিধামত সংবিধান আর অসুবিধায় চিপা রাস্তা খুঁজতে চাইলে তারেক রহমানও চিপায়ই পড়বেন।
আহসান এইচ মনসুররে মব (আনডাউটেডলি) কইরা নামানোর ঘটনা বিএনপির অনেক এক্টিভিস্টের কাছেও ইলিগ্যাল, অনুচিত মনে হইছে দেখলাম। এই মানবিকতা যদি উপরস্থ কারুর ভিতরে না থাকে, তাইলে ওনাদের (মানে ছোটখাটো এক্টিভিস্টদের) খারাপ লাগার আদতে কোনো ভ্যালু নাই। মায়াকান্না হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বিএনপি সরকার আসার পরেও মববাজি, ভ্যান্ডালিজম কমে নাই। ক্যাম্পাসগুলোতেও মোরাল পুলিশিং জারি আছে। বরং চ একজন সিগমা মন্ত্রী কর্তৃক নিয়োজিত মবও দেখলাম আমরা। আইরোনিকালি এক্স মবস্টারস লাইক এবি জোবায়ের, সর্বমিত্রসহ শিবির মবিলাইজড গ্রুপগুলারে আমরা দেখতেছি মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
এইগুলার বাইরেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে এলার্মিংলি বাড়সে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন। পাড়া মহল্লায়, থানায় থানায় আওয়ামী লীগের অফিসগুলা ওপেন হইতেসে। বিএনপির গ্রীন সিগন্যালেই হইতেসে।
আমি মনে করি, জামাত বিএনপির ব্যাপারে পজিটিভ আছে বলেই টু শব্দ করতেসে না। অনলাইন বুদ্ধিজীবী ও চটিলেখকদের ফাঁদে পা দিতেসে না। বিরোধীদল হিশেবে এইটা ভালো মুভ জামাতের জন্য। জামাতের রিয়ালাইজ করা উচিত, নির্বাচনের আগে পিনাকীসহ প্রো-জামাতি ও এনসিপির নিরপেক্ষদের এক্টিভিজমে তাদের অনেক ভোট কমসে। এখনো যদি না বুঝেশুনে অনলাইন পাগলদের প্রলাপ শুনে জামাত পাগলাঘোড়া হওয়া শুরু করে, তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়বে।
পাশাপাশি বিএনপিরও বোঝা লাগবে, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে তাদের পরিণতিও জামাতের মতই হবে।
বিএনপি যদি মনে করে তারা আওয়ামী লীগের মত হইতে পারবে, ঘোরের মধ্যে আছে। জামাত-বিএনপি মিলেও একটা আওয়ামী লীগ হওয়া পসিবল না। তার অনেক কারণ আছে। অন্যতম কারণ হইতেসে, লীগের সমর্থকদের মত অন্ধ ও বিবেকহীন হওয়া অন্য কোনো দলের জন্য পসিবল না। বিএনপি সমর্থকরা মনসুরকে বিদায় করার জন্য বিএনপির সমালোচনা করছে, নানা কারণে জামাত সমর্থকরা জামাতকে গালি দিতে থাকে সারাদিন; কিন্তু আওয়ামী লীগকে গালি দেয়ার মত বা সমালোচনা করার মত আওয়ামী লীগ খুব কমই আছে।
আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট কেবল হাসিনা আর তার মন্ত্রী-মিনিস্টার, এডমিনিস্ট্রেটররা বানায় নাই; বরং লীগের সিংহভাগ সমর্থকরা এমন, “তাদের আপা ভাপা পিঠা বানালেও তারা খাবে, ঠাপা পিঠা বানালেও।”
সুতরাং, এনসিপি অনলাইনে নিজেদেরকে “প্রধান বিরোধীদল” হিসেবে ঘোষণা করলে কোনো প্রবলেম নাই। জামাত চুপ আছে কারণ জামাত জানে প্রধান বিরোধীদল কারা। বিএনপিও জানে জামাত কেন চুপ আছে। এখন এটাকে সমঝোতার সরকার বলে কেউ খুশি থাকলে সেটাও থাকতে দেয়া উচিত। কিন্তু জামাত ও বিএনপি উভয়কেই বুঝতে হবে তাদের সমঝোতার মাধ্যমে দেশের লাভ হচ্ছে কতদূর। জামাত এখন পর্যন্ত ভালো পজিশনে আছে কৌশলগতভাবে। কিন্তু বিএনপি যেসব নিয়মবহির্ভূত, জনবিরোধী কাজবাজ করতেসে তাতে মনে হয় না “বিএনপি-জামাত” বাইনারিতে দেশ পরিচালনায় তারা খুশি। তারা চায় আওয়ামী-বিএনপি বাইনারি। তারা চায় আরেকটা ম্যাসাকার।