৪০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মায় ডুবে গেছে।
এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনকে উদ্ধার করা গেছে।
বাকিরা অজানা।
এই “অজানা” শব্দটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
আমরা জানি না তারা বেঁচে আছে কিনা, জানি না তাদের পরিবার এখন কী অবস্থায় আছে, জানি না কেউ এখনো নদীর দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে কিনা।
ঈদের ৭ দিনে ২০৪ জন মানুষ মারা গেছে।
সংখ্যাটা লিখতে সহজ।
কিন্তু প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একটা জীবন ছিল একটা পরিবার, কিছু স্বপ্ন, কিছু অসমাপ্ত কথা।
কিন্তু আমরা কী করছি?
আমরা স্ক্রল করছি।
দুই মিনিট থেমে বলছি, খারাপ লাগছে।
তারপর আবার নিজের জীবনে ফিরে যাচ্ছি।
কিছুদিন পর কেউ বলবে
সবকিছু ঠিক আছে।
হ্যাঁ, বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকই লাগে।
রাস্তা চলছে, বাস চলছে, মানুষ চলছে।
শুধু নিরাপত্তা নেই, জবাবদিহিতা নেই, জীবনের দাম নেই।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার কী জানেন?
আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
মৃত্যুর খবর এখন আর আমাদের নাড়া দেয় না আগের মতো।
আমরা হয়তো দোষ দেই সিস্টেমকে, সরকারকে, ভাগ্যকে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই চুপ থাকি।
তাহলে দোষ কার?
হয়তো আমাদের সবারই।
হয়তো এই চুপ করে থাকার মধ্যেই সবচেয়ে বড় অপরাধ লুকিয়ে আছে।
এই দেশে জন্মানো কি সত্যিই একটা পাপ?
নাকি আমরা নিজেরাই এমন এক বাস্তবতা মেনে নিয়েছি, যেখানে জীবনের মূল্য এতটাই কম?
প্রশ্নগুলো রয়ে যায়।
উত্তরগুলো আসে না।
তবুও লিখি
কারণ না লিখলে, না বললে, একদিন হয়তো আমরা পুরোপুরি অনুভব করাই বন্ধ করে দেব।
আর সেই দিনটাই হবে সবচেয়ে ভয়ংকর দিন।