এই মেয়েটা ইসলাম ভালোবাসে বলেই হিজাব পরে ড্রাম বাজাতে গেছিল,
শখ করে কেউ হিজাব পরে ড্রাম বাজাতে যায় না।
নিজের বাপকে ক্ষমা চাইতে দেখে এই হিজাব, ধর্ম মেয়েটার কাছে একটা ট্রমা হয়ে গেল।
সে কি আর কোনদিন এই জিনিসটাকে ঔন করতে পারবে?
না পারলে সেই দায় কাদের?
নবিজী এক নারীর গল্প বলেছিলেন।
যেই নারী শুধুমাত্র একটা কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্য জান্নাতে যাবেন।
ভাগ্যিস তখন বাংলাদেশের এই ইসলামি আর্মি ছিল না।
থাকলে সেই নারীকে বহু আগেই মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হত।
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর হুজুরকে আমি বলি পাপীদের হুজুর।
একমাত্র এই লোকটার কথাবার্তার সাথে আমি রিলেট করতে পারতাম।
আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের চোখে আমি কোনদিন আমাদের মত পাপীদের জন্য ঘৃণা বা চোখ রাঙানি দেখিনি।
বরং মায়া দেখতাম।
চমৎকার এক হাসি দিয়ে বলতেন, ভাইয়েরা, সিনেমা হল থেকে আসার সময় মসজিদে নামাজটা কিন্তু পড়ে আইসো।
সিনেমা দেখেছ বলে নামাজ বাদ দিও না।
আল্লাহ মেহেরবান, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দেবেন।
আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর আরও বলতেন, আমি কোনদিন পাপ করব না, এই কথা বলা সবচেয়ে বড় অহংকার। বরং বলবেন, পাপ যদি হয়ে যায়, আমি মাফ চেয়ে নিব।
নবিজীর জীবনী পড়ে এই ১৪০০ বছর পরে এসেও মুগ্ধ হই।
নারীদের সাথে, শিশুদের সাথে কী চমৎকার ব্যবহারটাই না নবিজী করতেন।
পাপীরা এসে পাপের কথা বলত।
নবিজী বলতেন, তুমি আল্লাহর কাছে মাফ চাও। মাফ করে দিবেন।
যেন এক শান্ত নদী, যে নদী দেখতে এসে সেইখানে ডুব না দিয়ে আর কেউ ফিরতে পারত না।
যেই নবী এত মায়া, এত ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মাথায় বুলিয়ে দিতেন, খোদার কাছে ক্ষমা চাইতে বলতেন,
সেই নবীর ওয়ারিশ দাবি করে এরা নিজেরাই খোদা হয়ে বসে আছে,
এখন পাপ করলে এদের কাছে মাফ চাওয়া লাগে,
আপনাদের চোখ মুখ কথা আমাদের ভয় লাগে
কই? ১৪০০ বছরের নবীজিকে দেখে তো আমাদের ভয় লাগে না?
এমনকি আপনাদের চেয়ে বড় স্কলার উস্তাদ নুমান আলী খান, ইয়াসির ক্বাযী বা তারিক জামিলদের কথা তো ভয় লাগে না?
এর অর্থ একটাই।
সমস্যা ধর্মে না।
সমস্যা আপনাদের এই বাঙ্গু মুসলিমদের আচরণে।
নবিজীর সময় একজন পাপীও নবিজী বা সাহাবাদের কাছে থেকে ভালোবাসা পাইসে, সম্মান পাইসে,
আর আপনারা একটা হিজাব পরা মেয়েকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করান, আপনারা রুমিন ফারহানার কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দেন,
না,
আপনাদের ইসলাম আর নবিজীর ইসলাম সেইম না।
সেইম হইতেই পারে না।