সবাই শুনে খুশি হবেন রাষ্ট্রে কোন কিছুই সংস্কার হচ্ছে না। সংস্কারের লক্ষ্যে যে কাজ গুলো শুরু করেছিলেন ইউনুস সরকার এই অধ্যদেশ গুলো বর্তমান সরকার বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।
যেমন, প্রথমেই গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল চাচ্ছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই গণভোট হয়েছে এবং সংস্কারের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। সরকারের এমন প্রস্তাব প্রমান করছে ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটকে তারা পাত্তাই দিতে চাচ্ছে না।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে একটি আইন তৈরি করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার। যাতে ভবিষ্যতে গুম থেকে মানুষ রেহাই পায় এবং গুম হলে সঠিক তদন্ত ও বিচার হয়। সরকার এটিও বাতিল চাচ্ছে।
হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে একটি নিয়োগ কমিটি গঠনের অর্ধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী দুই দফা নিয়োগ হয়েছে। সরকার বিচারক নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার লক্ষ্যে এটিও বাতিল করতে চাচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশনকে আরো স্বাধীন করার লক্ষ্যে আইনের সংশোধনী এনে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এটিও বাতিল চাচ্ছে। তারমানে সরকার গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাতে কোন প্রতিকার স্বাধীনভাবে না সেটা নিশ্চিত করতেই এ গুলো বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।
এবার আসি কথা কথায় সংবিধান মারানি হয়।
নম্বর-১
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির একমাত্র এখতিয়ার হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এর বাইরে বাকী সকল কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে।
২। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই প্রথম আদেশটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দণ্ড মওকুফ। তখন তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শে করেছেন।
৩। বলা হয় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের রেফারেন্স নিয়ে ইউনুস সরকার গঠন করেছিলেন। ১০৬ অনুযায়ী রেফারেন্স চাইতে কে পরামর্শ দিয়েছেন? তখন তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না!
৪। সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি এই এখতিয়ার প্রয়োগ করেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শে সংসদ ভেঙেছেন?
বাতিল চাওয়া অর্ধ্যাদেশের বিষয়ে যদি সংবিধান মারানি হয়, তাহলে এই সব কাজ গুলো রাষ্ট্রপতি কোন সংবিধানের আওতায় করেছেন?
মোটকথা বর্তমান সরকার আগের মতই গায়ের জোরে যা ইচ্ছা তা করতে চায়।
জুলাই বিপ্লবের এত রক্ত কি তাহলে বৃথাই যাবে???