ইসলাম কখোনোই দাসীকে ভোগের পন্য বা দাস প্রথাকে বিস্তার করতে বলে নাই। কেউ যদি দাসপ্রথা আবার চালু করতে চায়, আজাদ মানুষকে আবার দাস করতে চায় সে নবীজি বিরুদ্ধে দাড়াইলো। ইসলাম থেকে খারিজ হইলো

আমাদের দেশের জঙ্গীপন্থীরা জিহাদ করতে চায় সম্ভবত দাসির সাথে যৌথ সঙ্গম করার জন্যই, ৪ টা বিয় করার জন্য, হারেম বানানোর জন্য।

একজন লিখছে দাসীদের ভোগ করার বিরোধীতা করা যাবে না। বিধর্মী নারী ভোগ নাকি তার অধিকার। কিন্তু ইসলাম কি তা বলে?

চলেন জানি,

…আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার হতে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।
[সহীজ বুখারী ২২২৭]

…আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তার বাঁদীকে উত্তমরূপে জ্ঞান ও আদব শিক্ষা দেয় এবং তাকে মুক্ত করে ও বিয়ে করে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে। আর যে ক্রীতদাস আল্লাহর হক আদায় করে এবং মনিবের হকও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।

[সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) | হাদিস: ২৫৪৭]

… আল্লাহ তাআলা উত্তম আচরণের আদেশ দিয়েছেন, সর্বোত্তম পন্থায় মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি ক্ষতি নিষিদ্ধ করেছেন। ঋতুবতী নারীকে তালাক দেওয়া তার জন্য ক্ষতিকর।

[আল-উম্ম ৫/১৯৩]

…যদি কোনো নারী দাসীকে ক্রয় করা হয় এবং সে স্পর্শ করা বা তার সাথে শয়ন করা অপছন্দ করে, তবে তার সম্মতি ছাড়া সে তাকে স্পর্শ করতে, তার সাথে শয়ন করতে বা তার সাথে সহবাস করতে পারবে না।

[মিনহাজ ফি শুআব আল-ইমান ৩/২৬৭]

…যে ব্যক্তি তার দাসকে কঠোরভাবে প্রহার করে বা চপেটাঘাত করে, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত হলো তাকে মুক্তি দেওয়া।

[সহীহ মুসলিম ১৬৫৭]

…তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তাদের বিবাহ দাও। যদি তারা দরিদ্রও হয়, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।

[সূরা আন-নূর ২৪:৩২]

…যদি কোনো পুরুষ তার দাসীকে উত্তম আদব-কায়দা শেখায়, সর্বোত্তম উপায়ে শিক্ষিত করে, তারপর তাকে স্বাধীন করে বিয়ে করে, তবে সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।

[সূত্র: সহীহ আল-বুখারি ৩২৬২]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার যুদ্ধের কালে মুত’আ বিয়ে ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম করেছেন।

[সহীহ আল-বুখারি ৫১১৫, ৫৫২৩; সহীহ মুসলিম ১৪০৬, ১৪০৭]

ইসলাম যখন আসে, তখন শুধু আরবে না, পুরো পৃথিবীতেই দাসপ্রথা ছিল। রোমান সাম্রাজ্য, পারস্য, ভারত, আফ্রিকা, ইউরোপ, সবখানেই। দাসপ্রথা তখন এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে খুব কম মানুষই এইটার নৈতিকতা নিয়া প্রশ্ন তুলত।

এখন প্রশ্ন হইল, রাসুল (সাঃ) কী করতেন?

তিনি কি একদিনে ঘোষণা দিতেন, “আজ থেইকা সব দাস মুক্ত”? শুনতে ভালো লাগে। বাস্তবে তখন লক্ষ লক্ষ দাসের থাকার জায়গা নাই, আয়ের ব্যবস্থা নাই, সামাজিক নিরাপত্তা নাই। হঠাৎ সবাইরে রাস্তায় নামাইয়া দেওয়া মানবিকতা না। এইটা নতুন বিপর্যয় তৈরি করত।

তাই রাসুল (সাঃ) সমস্যার শিকড় কাটছেন। দাসপ্রথারে আরও শক্তিশালী করেন নাই। বরং ধীরে ধীরে শেষ করার ব্যবস্থা করছেন।

যে সমাজে মানুষ দাস কিনা-বেচা কইরা গর্ব করত, সেই সমাজে তিনি দাস মুক্ত করারে ইবাদত বানাইলেন।

যে সমাজে দাস ছিল সম্পত্তি, সেই সমাজে তিনি বললেন, “তোমাদের দাসরা তোমাদের ভাই।”

যে সমাজে দাসরে পশুর মতো ব্যবহার করা হইত, সেই সমাজে তিনি বললেন, তোমরা যা খাও তাদেরও তাই খাওয়াও, তোমরা যা পরো তাদেরও তাই পরাও।

যে সমাজে দাসীর কোনো সম্মান ছিল না, সেই সমাজে তিনি দাসীকে শিক্ষা দেওয়া, মুক্ত করা আর বিয়ে করারে নেকির কাজ বানাইলেন।

এখন একটু চিন্তা করেন।

কোনো ধর্ম দাসপ্রথা টিকাইয়া রাখতে চাইলে কি দাস মুক্ত করার জন্য এত পুরস্কার ঘোষণা করত? গুনাহের কাফফারা হিসাবে বারবার দাস মুক্ত করার কথা বলত? দাসেরে ভাই বলত?

অবশ্যই না।

বাস্তবতা হইল, ইসলাম দাসপ্রথারে একদিনে নিষিদ্ধ করে নাই। কারণ সমাজ তখন সেই ধাক্কা নেওয়ার অবস্থায় ছিল না। ইসলাম সেই ব্যবস্থারে অর্থনৈতিক, সামাজিক আর ধর্মীয়ভাবে ধীরে ধীরে অকার্যকর বানাইছে।

এই কারণেই রাসুল (সাঃ)-এর পদ্ধতি ছিল আবেগের না, বাস্তবতার। স্লোগানের না, সমাধানের।

ইসলাম আসার আগে দাসপ্রথা ছিল সর্বজনীন। ইসলাম আসার পরে দাস মুক্ত করা নৈতিক, ধর্মীয় আর সামাজিক গুণে পরিণত হয়।

ইসলাম কখোনোই দাসীকে ভোগের পন্য বা দাস প্রথাকে বিস্তার করতে বলে নাই। কেউ যদি দাসপ্রথা আবার চালু করতে চায়, আজাদ মানুষকে আবার দাস করতে চায় সে নবীজি বিরুদ্ধে দাড়াইলো। ইসলাম থেকে খারিজ হইলো।