গুমের সংস্কৃতি চালু হয়ে গেলে মানুষের বাকী সব অধিকার নাই হয়ে যায়

একটা লোককে ১১২ দিন ধরে গুম করে রাখা হয়েছে। তার জন্য মানববন্ধন করতে গিয়ে তার মা-বোন-স্ত্রী আক্রমণের শিকার হয়েছে। জেলও খেটেছে। অথচ আমরা কিছুই জানি না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই ঘটনাকে ২৪ পরবর্তী প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারেক রহমানের সরকার শুধু গুমই ফিরিয়ে আনেনি। গুম সংক্রান্ত নিউজ, আলোচনা, সবকিছুকেই সফলভাবে আউট করে রেখেছে।

গুমের শিকার মিরাজ কী অপরাধী? হতে পারে। হোক। কিচ্ছু আসে যায় না। সে যদি কুখ্যাদ জলদস্যুও হয়, তবুও সেটা আদালতে প্রমাণ করতে হবে। এরপর শাস্তি দিবে। কোনোভাবেই গুম করা যাবে না।

হাসিনার আমলে যারা গুম হয়েছিল, তাদের অনেকেই ফেরেশতা ছিল না। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ছিল। তারপরেও তাদেরকে গুম করা মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল। এই ঘটনাটাও সেম।

নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আমি জানি আপনাদের নিজেদের উপরেই হামলা হচ্ছে। আপনাদের সমাবেশে যাওয়া একটা ছেলের চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তবুও আপনাদেরকে এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। মিরাজের সন্ধান দিতে, তাকে গুম থেকে ফিরিয়ে আনতে, গুমের ঘটনার জন ক্ষমা চাইতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

এটা শুনতে হয়তো খারাপ লাগতে পারে। আপনাদের উপরে হামলা, আপনাদের ছোট ভাইয়ের চোখ উপড়ে ফেলাও বড় ধরনের অন্যায়, অপরাধ। কিন্তু একজন নাগরিককে গুম করা তার চেয়ে আরও অনেক বড় অপরাধ।

হাসিনার আমলের যদি একটা অপরাধ থাকে, যেটাকে ফিরতে না দেওয়ার জন্য আমাদের জানপ্রাণ দিয়ে প্রতিরোধ করা উচিত, সেটা হচ্ছে গুম। একবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়ে গেলে মানুষের বাকি সব অধিকার ধীরে ধীরে নাই হয়ে যাবে। কেউ আর কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না।

রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে গুম করে সরকারকে পার পেতে দেওয়া যাবে না। মিরাজকে অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এই ঘটনার জন অবশ্যই দোষীদেরকে শাস্তি দিতে হবে। এটা আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। অস্তিত্বের প্রশ্ন।