জুলাই–আগস্টে দুই হাজার মানুষের শাহাদাতের পর, একটি ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম এবার হয়তো রাজনীতি একটু মানবিক হবে। অন্তত রাজনীতি করতে গিয়ে কাউকে আর খুন হতে হবে না। কিন্তু শেরপুরের ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সেই আশা কতটা ভঙ্গুর ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের দায় কোনো একক দলের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির পাশাপাশি সরকারকেও এই দায় নিতে হবে। বিশেষ করে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে যেভাবে সরকার ও প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলকে সর্বক্ষেত্রে সুবিধা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, শেরপুরের ঘটনাকে সেই প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনিক পক্ষপাত, রাজনৈতিক ছাড় সব মিলিয়েই সহিংসতার পথটা আরও প্রশস্ত হয়েছে।
গত দেড় বছরে বিএনপি নিজেদের ভেতরের কোন্দলেই বহু মানুষ খুন করেছে। এসব ঘটনা নতুন নয়, অজানা নয়। আমরা বারবার সাবধান করেছি রাজনীতির ভেতরে এই সহিংসতা দলকেই একদিন ডুবাবে। কিন্তু বিএনপি সেই সতর্কবার্তা কানে নেয়নি। কানে নিলে আজ মাওলানা রেজাউল করিমকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।
তারেক রহমান এখন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড নিয়ে কথা বলছেন। বলছেন “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” প্রশ্ন হলো, সেই প্ল্যান কি শুধু কাগজে-কলমে? নিজের দলের নেতাকর্মীদের হাতে মানুষ খুন বন্ধ করার জন্য তারেক রহমানের প্ল্যান কী সেটা আমরা জানি না।
যে দেশে সাধারণ মানুষ বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত থেকে নিজের জীবন নিরাপদ মনে করে না, সে দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে আসলে কী হবে? মানুষ যদি বাঁচতেই না পারে, তাহলে কার্ড দিয়ে পেট ভরানোর রাজনীতি কতটা অর্থবহ?
রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রাজনীতি মানে ক্ষমতার লড়াই নয়, জীবন রক্ষার দায়। যে রাজনীতি নিজের লোকদের লাগাম টানতে পারে না, যে রাজনীতি হত্যার দায় এড়িয়ে যেতে চায় সেই রাজনীতি কোনো বিকল্প হতে পারে না।
শেরপুরের ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল স্বৈরতন্ত্রের পতনই শেষ কথা নয়। সহিংস রাজনীতির সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে, নতুন মুখ আর নতুন স্লোগান দিয়েও পুরোনো রক্তই ঝরবে।
আর সেই রক্তের দায় ,ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেবে না।